কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬ এ ০৫:৩১ PM

জেলা প্রশাসকের বার্তা

কন্টেন্ট: পাতা

প্রিয় নীলফামারীবাসী,

জনগণের প্রত্যাশা, অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তিতে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বহুমাত্রিক সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে চলেছে। সরকারের নির্ধারিত দশটি অগ্রাধিকার ক্ষেত্রের আওতায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ই-হেলথ কার্ড, ডিজিটাল ভূমি সেবা, ই-বেইলবন্ড, খাল পুনঃখনন কর্মসূচি, ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক কর্মসূচিসহ জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ, জ্বালানির সাশ্রয়ী ও দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, বিকল্প জ্বালানি উৎসের উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি ও পরিবেশ সংরক্ষণ, স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নাগরিকসেবার গুণগত মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় অগ্রাধিকারসমূহ বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, নীলফামারী সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, পেশাদারিত্ব ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের সম্ভাবনাময় জেলা নীলফামারী আজ পরিবর্তন ও অগ্রগতির এক নতুন অধ্যায়ে উপনীত হয়েছে। কৃষি, শিক্ষা, যোগাযোগ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ বিকাশের ক্ষেত্রে জেলার অর্জন ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে। বিশেষ করে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা, ক্রমবর্ধমান শিক্ষার হার এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নীলফামারীকে নতুন সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে।

মানসম্মত শিক্ষা একটি উন্নত সমাজ নির্মাণের প্রধান ভিত্তি। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসার, ঝরে পড়া শিক্ষার্থী হ্রাস এবং দক্ষ ও যোগ্য মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের সঙ্গে সমন্বিতভাবে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে নীলফামারীতে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে এবং এ লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপ অগ্রসরমান রয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবাকে আরও জনবান্ধব ও সহজলভ্য করার জন্য স্বাস্থ্য অবকাঠামোর কার্যকর ব্যবহার, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পুষ্টি উন্নয়ন এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি নীলফামারীতে একটি ১,০০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ ও অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক প্রক্রিয়া অগ্রাধিকারভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের এসব যুগান্তকারী উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নীলফামারীকে একটি আধুনিক, জ্ঞানভিত্তিক ও উন্নত জনসেবার জেলায় রূপান্তরের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, পেশাদারিত্ব ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।নীলফামারীর অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার সঙ্গে পানি ও কৃষির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে খাল পুনঃখনন, জলধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচির অংশ হিসেবে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও স্থানীয় পরিবেশ পুনরুদ্ধারে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

পরিবেশ সুরক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন আজ সময়ের দাবি। বর্তমান সরকারের আগামী পাঁচ বছরে ৫ কোটি গাছ রোপণের জাতীয় উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জেলা প্রশাসন, নীলফামারী জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করে জেলার সর্বত্র পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু-সহনশীল নীলফামারী গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও আরও বেগবান করা হবে।

আমরা বিশ্বাস করি, নীলফামারীর উন্নয়নের পরবর্তী ধাপ হবে সম্ভাবনাকে সম্পদে রূপান্তরের ধাপ। কৃষিভিত্তিক শিল্প, দুগ্ধ ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সীমান্তভিত্তিক বাণিজ্য, পর্যটন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং যুব উদ্যোক্তা উদ্ভাবনের মাধ্যমে জেলার অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারি দপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

জেলা প্রশাসনের প্রতিটি উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জনগণের কল্যাণ। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং সেবামুখী প্রশাসনের মাধ্যমে আমরা একটি উন্নত, পরিবেশবান্ধব ও সম্ভাবনাময় নীলফামারী গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।

আসুন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা, দায়িত্বশীল নাগরিকত্ব এবং উন্নয়নের অভিন্ন প্রত্যয়ে আমরা গড়ে তুলি আগামী দিনের নীলফামারীযে নীলফামারী হবে জ্ঞান, মানবিকতা, উৎপাদনশীলতা, পরিবেশ সচেতনতা ও সমৃদ্ধির এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

সকলের জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা।

জেলা প্রশাসক
নীলফামারী

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন